• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

হ্যালোইন উৎসবের সময় যুক্তরাষ্ট্রে সহিংসতা ও গুলিবর্ষণে প্রাণহানি অন্তত ২৪ জনের

হ্যালোইন উৎসবের সময় যুক্তরাষ্ট্রে সহিংসতা ও গুলিবর্ষণে প্রাণহানি অন্তত ২৪ জনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হ্যালোইন উৎসবকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক গুলিবর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অন্তত ২৪ জন নিহত এবং ৯৪ জন আহত হয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ডেলাওয়ার পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নৈশক্লাব, পোশাকের দোকান, স্টেডিয়াম ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশপাশে এসব ঘটনা ঘটে।

রোববার (১ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বরের মধ্যে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা পুলিশের বিভিন্ন বিবৃতি এবং সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে।

এর মধ্যে টেক্সাসের ডালাস শহরের ডিপ এলাম এলাকায় তিনটি পৃথক গুলিবর্ষণের ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। স্থানীয় সময় রোববার ভোরে এসব ঘটনা ঘটে।

ডিপ এলাম ডালাসের একটি পরিচিত বিনোদন এলাকা। সেখানে রয়েছে অসংখ্য বার, রেস্তোরাঁ, সংগীত পরিবেশনার স্থান ও নৈশক্লাব। হ্যালোইন উপলক্ষে শনিবার রাতেও এলাকাটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়েছিল।

ডালাস পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে এলম স্ট্রিটের ২৬০০ ব্লকে রাত ১২টা ২০ মিনিটে। দ্বিতীয়টি ঘটে রাত ১টা ৫ মিনিটে মেইন স্ট্রিটের একই ব্লকে। এরপর রাত ১টা ৩৫ মিনিটে সাউথ ক্রাউডাস স্ট্রিটের ২০০ ব্লকে তৃতীয় দফায় গুলি চালানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, তিনটি ঘটনায় মোট ১৯ জন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের মধ্যে চারজন মারা যান। আহত ১৫ জনের কয়েকজনকে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা হাসপাতালে নিয়ে যান। বাকিরা নিজেরাই হাসপাতালে পৌঁছান।

ডালাসের ঘটনাগুলো হ্যালোইন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক বন্দুক সহিংসতার অংশ। বিভিন্ন স্থানে উৎসব ও জনসমাগমের মধ্যে এসব হামলার ঘটনা ঘটে।

ডালাসের পুলিশপ্রধান ড্যানিয়েল কোমো জানান, হ্যালোইন উপলক্ষে আগে থেকেই অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ফলে গুলির খবর পাওয়ার পর কাছাকাছি থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পেরেছেন। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।

ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলেও দুটি পৃথক গুলিবর্ষণের ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হন এবং দুজন নিহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে দুজন অনিচ্ছাকৃতভাবে গুলির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিলেন।

শহরটির আরেকটি স্থানে রোববার রাত ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে একটি পার্টি চলছিল। একপর্যায়ে সেই আয়োজন রাস্তায় ছড়িয়ে পড়লে গুলির ঘটনা ঘটে। এতে ১০ জন গুলিবিদ্ধ হন। নিহত হন ২০ বছর বয়সী এক তরুণ। আহত ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর অবস্থা স্থিতিশীল। অন্য একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মিসিসিপির জ্যাকসনের একটি নৈশক্লাবেও গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। এতে দুজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন।

উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি পোশাকের দোকানে বন্দুকধারীর গুলিতে চার সন্তানের জননী এক অন্তঃসত্ত্বা নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। তাঁদের মধ্যে দুই কিশোরের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ওকলাহোমা সিটিতে হ্যালোইন পার্টি চলাকালে একটি ট্রেলার পার্কে গোলযোগের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে একজনের পায়ে একাধিক গুলি লাগে। তিনি প্রাণে বেঁচে যাবেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। একই ঘটনায় দুজন গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন। তবে কীভাবে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকাগুলোতেও গুলিবর্ষণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় দুই ডজনের বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

আলাবামার বার্মিংহামে লেজিয়ন ফিল্ড স্টেডিয়ামের বাইরে গুলিতে একজন নিহত ও আটজন আহত হন। এর আগে স্টেডিয়ামটিতে আলাবামা এঅ্যান্ডএম ও আলাবামা স্টেটের মধ্যে ‘ম্যাজিক সিটি ক্লাসিক’ নামে পরিচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

ইলিনয়ের ব্লুমিংটনে ইলিনয় ওয়েসলিয়ান ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসের কাছে গুলিবিদ্ধ আটজনকে সহায়তা করেন পুলিশ কর্মকর্তারা। ঘটনাস্থলেই ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত অন্য সাতজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে ব্লুমিংটন পুলিশ।

এদিকে ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ব্লুমিংটনে ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসের কাছেও গুলির শব্দ শোনেন স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা। সেখানে হ্যালোইনের পাশাপাশি হোমকামিং উৎসব চলছিল। পুলিশ জানিয়েছে, শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় একাধিক ব্যক্তি গুলিতে আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় সাতজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তিনিই গুলি চালিয়েছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামলার উদ্দেশ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তে তদন্ত চলছে।

ডেলাওয়ারের নিউয়ার্ক শহরে ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যারের কাছেও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সেখানে ছয়জন গুলিবিদ্ধ হন। আরকানসাসের ফায়েটভিলেও গুলিতে আহত ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বিরোধের জের ধরে সেখানে গুলি চালানো হয়।

হ্যালোইনসহ বড় জনসমাগমের অনুষ্ঠানে বন্দুক সহিংসতা ঠেকানো নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় আগাম সতর্কতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রতিটি জনসমাগমস্থলে পুলিশের উপস্থিতি নিশ্চিত করা কঠিন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ব্যুরো অব জাস্টিস স্ট্যাটিস্টিকসের সাবেক পরিচালক ও ইউনিভার্সিটি অব মায়ামির অপরাধবিজ্ঞানী অ্যালেক্সিস পিকেরো বলেন, পুলিশ প্রতিটি বারে থাকতে পারে না। প্রতিটি গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গাতেও থাকতে পারে না।

০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০৯পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।