• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

বিদ্যুৎ খাতে অনিয়মের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারকে দায়ী করলেন রিজভী

বিদ্যুৎ খাতে অনিয়মের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারকে দায়ী করলেন রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ইনডেমনিটি আইন করে বিদ্যুৎ খাতে হযবরল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নয়-ছয় করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।

আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত ‘রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও শৈলকুপা পৌরসভা এলাকায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাব্যতা যাচাই ও লাইফলাইন গ্রাহক সমীক্ষা: ফলাফল ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গণসংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে রাষ্ট্রের প্রতিটি খাতকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। গণমাধ্যম প্রতিটি খাতের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনামূলক আর্টিকেল প্রকাশ করতে পারে। এতে সরকারে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় এবং সরকার আরও বেশি স্বচ্ছ হয়ে উঠে।

বিদ্যুৎ সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংকট শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। এ সংকট মোকাবিলায় সরকার বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছে। ধীরে ধীরে সংকট কাটতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে জ্বালানি নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।

রিজভী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, অন্ধকার কখনো চিরস্থায়ী হয় না। অন্ধকারের পর আলো আসার সম্ভাবনা সব সময়ই থাকে।’ ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিভিন্ন উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সম্প্রতি সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনেও এ খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ও সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ এবং নতুন বিনিয়োগের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

গণসংলাপে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধ সম্পর্কে রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রবন্ধের লেখক একতরফাভাবে নিজের বক্তব্যকে সঠিক প্রমাণের চেষ্টা করেননি। বরং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নিজের গবেষণাকে প্রশ্ন করার যথেষ্ট সুযোগ রেখেছেন। শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রশ্ন করতে শেখা। পৃথিবীতে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটেছে প্রশ্ন করার মধ্য দিয়ে। প্রশ্ন করার প্রবণতাই মানুষকে আজকের সভ্যতার পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।

তিনি জানান, প্রবন্ধে বিদ্যুতের ব্যবহারকে দারিদ্র্য নিরূপণের একটি সূচক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এর মাধ্যমে মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া কঠিন। কারণ, প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক মানুষ এখনো বিদ্যুৎ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। কোথাও বিদ্যুৎ পৌঁছালেও সব পরিবার সমানভাবে এ সুবিধা ভোগ করতে পারছে না।

শহরের বস্তি এলাকাগুলোতেও একই বাস্তবতা দেখা যায়। সেখানে অনেক দরিদ্র পরিবার বিদ্যুতের সংযোগ ভাগাভাগি করে ব্যবহার করে। পরিবারের একজন ঘুমালে অন্যজন পড়াশোনা করে। আবার একজনের পড়াশোনা শেষ হলে অন্যজন সেই আলোয় পড়তে বসে। অনেক মা-বাবা নিজেরা নানা কষ্টের মধ্যে থেকেও সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কখনো বিদ্যুতের অভাবে সন্তানদের হারিকেন জ্বালিয়ে পড়তে হয়।

রিজভী বলেন, এসব বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়, বিদ্যুতের সংযোগ থাকা আর পর্যাপ্তভাবে বিদ্যুৎ-সুবিধা ভোগ করা এক বিষয় নয়। তবে এ ধরনের গবেষণা ও উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। কারণ, কোনো বিষয়কে নতুনভাবে বিশ্লেষণ করা এবং প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানোই জ্ঞানচর্চাকে এগিয়ে নেয়।

ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির এবং সাংবাদিক কাজল শহীদ।

২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৪পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।